Wednesday, February 16, 2011

আল্লাহ যাদের ভালবাসেন


আল্লাহ যাদের ভালবাসেন

وَكَأَيِّن مِّن نَّبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ

আরো অনেক নবীও ছিল, সে নবী (আল্লাহ’র পথে) যুদ্ধ করেছে, তার সাথে  অনেক জ্ঞানবান সাধক (আলেম, ওলামা, দরবেশ) ব্যক্তিরা, আল্লাহ’র পথে তাদের উপর যত বিপদ মুসিবত-ই এসেছে তাতে তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েনি, তাঁরা দুর্বলও হয়নি, (দুর্নীতিবাজ,শয়তান, ও নষ্টদের সামনে) তাঁরা মাথা নতও করেনি। (এধরণের) ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের-ই আল্লাহ ভালবাসেন।

____________________________________________________________________
তথ্য সূত্র: কোরআন [৩:১৪৬] / সূরা-আল ইমরান: আয়াত একশ ছিচল্লিশ

সীমানা


সীমানা


‏سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ‏ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏يَقُولُ ‏ ‏وَأَهْوَى ‏ ‏النُّعْمَانُ ‏ ‏بِإِصْبَعَيْهِ إِلَى أُذُنَيْهِ ‏ ‏إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ فَمَنْ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ ‏ ‏اسْتَبْرَأَ ‏ ‏لِدِينِهِ ‏ ‏وَعِرْضِهِ ‏ ‏وَمَنْ وَقَعَ فِي ‏ ‏الشُّبُهَاتِ ‏ ‏وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي ‏ ‏يَرْعَى حَوْلَ ‏ ‏الْحِمَى ‏ ‏يُوشِكُ أَنْ ‏ ‏يَرْتَعَ ‏ ‏فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ ‏ ‏حِمًى ‏ ‏أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ ‏ ‏مُضْغَةً ‏ ‏إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
- صحيح مسلم / ‏كِتَاب ‏ ‏الْمُسَاقَاةِ ‏ ‏ ‏بَاب ‏ ‏أَخْذِ الْحَلَالِ وَتَرْكِ الشُّبُهَاتِ

হালাল সুস্পষ্ট ও হারামও সুস্পষ্ট, আর এই দুইয়ের মধ্যে অনেক সন্দেহজনক ব্যাপার আছে। যেগুলি (হালালও নয় হারামও নয়, সেগুলো) সম্পর্কে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই ক্ষেত্রে যে লোক সন্দেহের বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে চলবে, তার দ্বীন এবং মান সম্মান পবিত্র থাকবে। অন্য দিকে যে লোক সন্দেহের কাজে লিপ্ত হবে, সে খুব তাড়াতাড়ি হারাম কাজেও লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন- যে রাখাল তার পশুপালকে নিষিদ্ধ এলাকার ধারে নিয়ে চরাবে, খুব সম্ভবত তার পশু নিষিদ্ধ এলাকার ভিতরেও মুখ ঢুকিয়ে ফেলবে

তোমরা আরেকটি ব্যাপার মনে রাখবে, মানুষের শরীরের ভেতর একটি মাংসখন্ড রয়েছে, তা ঠিক থাকলে পুরো শরীর ঠিক থাকে। আর সেটি বিকৃত হয়ে পড়লে পুরো শরীরেই বিকৃতি ঘটে। সেই মাংসপিণ্ডটি হল অন্তঃকরণ (হৃদয়)



____________________________________________________________________
হযরত নো’মান ইবনে বশীর থেকে বর্ণিত, বুখারী ও মুসলিম- কিতাবুল মুসাকাহ, অধ্যায় আখযিল হালালি ওয়া তারকিশ্শুবুহাত

Wednesday, February 2, 2011

প্রতারক

প্রতারক
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ
يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ

কিছু লোক এমনও আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর ওপর  আখেরাতের দিনের ওপর ঈমান এনেছি, অথচআসলে তারা মুমিন নয়    তারা আল্লাহর সাথে  যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে ধোঁকাবাজি করেছে  কিন্তুআসলে তারা নিজেদেরকেই প্রতারিত করছে, তবে তারা  ব্যাপারে সচেতন নয়  তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ,আল্লাহ সে রোগ আরো বেশী বাড়িয়ে দিয়েছেন,  আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছেযন্ত্রণাদায়ক শাস্তি   বাকারা:৮,৯,১০

ব্যাখ্যা:
“কিন্তু আসলে তারা নিজেদেরকেই প্রতারিত করছে, তবে তারা  ব্যাপারে সচেতন নয় ৷”

তাদের মুনাফেকী কার্যকলাপ তাদের জন্য লাভজনক হবে   ভুল ধারণায় তারা নিমজ্জিত হয়েছে  অথচএসব তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আখেরাতেও৷ একজন মুনাফিক কয়েকদিনের জন্য পৃথিবীর মানুষকেধোকা দিতে পারে কিন্তু সবসময়ের জন্য তার এই ধোঁকাবাজি চলতে পারে না  অবশেষে একদিন তার মুনাফিকীরগুমোর ফাঁক হয়ে যাবেই  তখন সমাজে তার সামান্যতম মর্যাদাও শেষ হয়ে যাবে  আর আখেরাতের ব্যাপারে বলাযায় , সেখানে তো ঈমানের মৌখিক দাবীর কোন মূল্যই থাকবে না যদি আমল দেখা যায় তার বিপরীত 

যেভাবে তাদের রোগ আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে:
তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ, আল্লাহ সে রোগ আরো বেশী বাড়িয়ে দিয়েছেন

মুনাফিকীকেই এখানে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে  আর আল্লাহ  রোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন, একথার অর্থহচ্ছে এই যে, তিনি কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলেই মুনাফিকদেরকে তাদের মুনাফিকী কার্যকলাপের শাস্তি দেন না বরংতাদেরকে ঢিল দিতে থাকেন৷ তাদের গাড়ি, বাড়ি , টাকাপয়সা, ব্যান্ক ব্যালেন্স বাড়তে থাকে। উন্নতির পথ খুলতে থাকে, আর মুনাফিকরা ভাবে হয়ত এ বুঝি তাদের মুনাফিকী আর প্রতারণার কারণেই হচ্ছে।ফলে মুনাফিকরা নিজেদের কলা-কৌশলগুলোকে আপাত দৃষ্টিতে সফল হতে দেখে আরো বেশী  পূর্ণ মুনাফিকীকার্যকলাপে লিপ্ত হতে থাকে  জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে তাদের মুনাফিকী ও প্রতারণা। এভাবে এমন এক সময় উপস্থিত হয় যখন তাদের পাপের নৌকা কানায় কানায় ভরে ওঠে এবং আল্লাহ তাদের ভয়ানক শাস্তি দেন

অবৈধ বিত্তে গড়ে ওঠা মানুষের প্রার্থনা মন্জুর হয় না

অবৈধ বিত্তে গড়ে ওঠা মানুষের প্রার্থনা মন্জুর হয় না: 
নবী স. বলেন: আল্লাহ তাআলা পবিত্র; তিনি একমাত্র পবিত্র বস্তুকেই কবুল করেন। আল্লাহ রাসূলদের যে আদেশ করেছেন মুমিনদেরকেও সে আদেশ করেছেন। “ হে রসূল আপনারা পাক পবিত্র হালাল খাদ্য খাবেন এবং সৎকাজ করতে থাকবেন।” মুমিনদের উদ্দেশ্য করে তাই-ই বলেছেন “ হে মুমিনরা, আমার দেয়া পাক পবিত্র হালাল রিযিক হতে খাও”।  
অতঃপর নবী স. বলেন: এক ব্যক্তি দূর-দূরান্তের সফর করছে। তাঁর মাথার চুল এলোমেলো, শরীর ধুলোময়, চেহারা বিবর্ণ ও ধুসর। এ অবস্থায় সে ব্যক্তি তাঁর দুই হাত আকাশের দিকে উঠিয়ে কাতর কণ্ঠে “ হে প্রভু!!হে প্রভু!! ” বলে ডাকছে। কিন্তু তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, গায়ের কাপড় হারাম (উপায়ে অর্জিত) এবং এ সব অবৈধ হারাম কামাই-ই সে খেয়ে থাকে। এ ব্যক্তির দোআ কীভাবে মন্জুর হবে!
___________________________________________________________
আবু হুরায়রা (র:) থেকে বর্ণিত: মিশকাত-২৬৪০, মুসলিমতথ্যসূত্র:  মিশকাতুল মাসাবিহ

ঈমান


রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি জিনিস এমন যার মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে, সে ঈমানের স্বাদ পাবে ।  
১) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল তার কাছে অন্য সবকিছু থেকে প্রিয় হওয়া ।  
২) কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ভালবাসা ।  
৩) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেভাবে অপছন্দ করে, তেমনি আবারও কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করাকে অপছন্দ করে। 
____________________________
বুখারী-৬৩৫৯:   মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ্ ইব্ন হাওশাব তায়েফী (র) .......... আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত ।

জবাবদিহিতা


عن ابن عمر رضي الله عنهما ، قَالَ : سمعت رَسُول الله،    يقول: (( كُلُّكُمْ
رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتهِ : الإمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤولٌ
عَنْ رَعِيَّتِهِ ، والرَّجُلُ رَاعٍ في أهْلِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
، وَالمَرْأةُ رَاعِيَةٌ في بيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا ،
وَالخَادِمُ رَاعٍ في مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ،
فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ )) مُتَّفَقٌ عَلَيهِ [رواه
البخاري: 7/41 ( 5200 ) ، ومسلم 6/7 ( 1829 ) ( 20 )].
 
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের প্রত্যেকেই
রক্ষণাবেক্ষণকারী(বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের
রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
 
*পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও
দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
 
*স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী এবং তাকে সে সম্পর্কে জবাবদিহি
করতে হবে।
 
*খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে তার সে দায়িত্বপালন
সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
 
*অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন
সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।”
 
[বুখারী: ৭/৪১(৫২০০) ও মুসলিম: ৬/৭(১৮২৯)]
 

ফিতনাহ

ফিতনাহعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَشْرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى قَالُوا لَا قَالَ فَإِنِّي لَأَرَى الْفِتَنَ تَقَعُ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَوَقْعِ الْقَطْرِ . [رواه البخاري: 21/450 كباب الفتن, باب- قول النبي ويل للعرب]  
নবী স. একবার মদীনার টিলাসমূহের মধ্যে কোন একটি টিলার উপর আরোহন করে বললেন: আমি যা দেখছি, তোমরা কি তা দেখছো? (সাহাবীরা) বললেন: না। তিনি বললেন: আমি তোমাদের ঘরসমূহে ফেৎনা (পরীক্ষা, কঠিন সময় ও বিশৃংখলা) বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় পতিত হতে দেখছি। 
[ওসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত বুখারী: ২১/৪৫০, কিতাবুল ফিতান, বাব- কাওলুন নবী ওয়াইলুন লিল আরব।]